Site Under Construction

Bracking

Monday, July 6, 2020

5:04 AM

মোটর / ফ্যান চালু হওয়ার সময় বেশি কারেন্টের দরকার হয় কেন?

মোটর / ফ্যান চালু হওয়ার সময় বেশি কারেন্টের দরকার হয় কেন?

মোটর / ফ্যান Start নেয়ার সময় বেশি কারেন্ট দরকার। যাকে আমরা (ইনরাশ কারেন্ট) Inrush Current / (সার্জ কারেন্ট) Surge Current হিসেবে চিনি। কিন্তু এখন প্রশ্নটা হচ্ছে কেন বাড়বে???
উত্তরটা দেয়ার আগে একটা সুন্দর উপমা দিয়ে রাখি।
ধরুন, সকাল হয়ে গেছে। বাইরে মুষুলধারায় বৃষ্টি হচ্ছে। অফিস যাওয়ার টাইম হয়ে গেছে। মনের সাথে রীতিমত যুদ্ধ লেগে গেছেন অফিস যাওয়া না যাওয়া নিয়ে। স্ত্রী ডাক দেয়া শুরু করল অফিস যাওয়ার জন্য। কিন্তু ঘুম থেকে উঠতেই মনে চাইছেনা। অবশেষে উঠেই গেলেন। এ ক্ষেত্রে নিশ্চয় আপনাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক জোর খাটাতে হয়েছে। হুম খাটাতে ত হবেই, নিউটনের প্রথম সূত্র সেটাই বলে। যেটাকে আমরা জড়তা হিসেবে চিনি।
এবার মূল কথায় আসি। ফ্যান / মোটর যখন বন্ধ অবস্থায় থাকে তখন তার মধ্যে স্থিতি জড়তা কাজ করে। তাই টার্ন অন করতে গেলে তাকে খুব বড় সড় টর্ক সৃষ্টি করতে হয়। আর তার জন্যই অনেক এম্পিয়ার টানতে হয় তাকে।
এখানেই ইতি নয় আরো কারণ আছে। যেগুলো হল :
  1. প্রাথমিকভাবে Back emf থাকে না।
  2. আর্মেচার এর রোধ খুব নগন্য থাকে। তাই সেটা শর্ট সার্কিট এর ন্যায় আচরণ করে।
দুটো ব্যাপার একটু Mathematically Analysis করি।
আমরা জানি, মোটরের ইনপুট ভোল্টেজ
V = Eb + IaRa
যেখানে, Eb = back emf ; Ra = Armature resistance.
এখন টার্ন অন হওয়ার শুরুতে Eb = 0.
তাহলে দাঁড়ায়,
V = IaRa
or, Ia = V / Ra
এখন, আর্মেচার এর রোধ নগন্য হওয়ায় Ia খুব বেশি হবে।

5:02 AM

সিংগেল ফেইজ পাওয়ারকে থ্রী ফেইজ পাওয়ারে রুপান্তর পদ্ধতি

সিংগেল ফেইজ পাওয়ারকে থ্রী ফেইজ পাওয়ারে রুপান্তর পদ্ধতি

অনেকের মনে একটা প্রশ্ন বিরাজ করে যে আমি সিংগেল ফেইজ পাওয়ারকে কিভাবে থ্রী ফেইজ পাওয়ার এ রুপান্তরিত করব???

কাজটি তিনটি উপায়ে করা যায়

VFD ব্যবহার করে।
Phase converter ব্যবহার করে।
স্টেইনমেজ কানেকশন এর মাধ্যমে।
আজকে VFD (Variable Frequency Drive) এর মাধ্যমে কিভাবে করা হয় সেটার ব্যাখ্যা করব।

VFD এর মূলত তিনটি পার্ট

রেক্টিফায়ার সার্কিট
ফিল্টার সার্কিট
ইনভার্টার
নিম্মে কার্যক্রম দেয়া হলোঃ

প্রথমে ইনপুটে সিংগেল ফেইজ এসি সাপ্লাই প্রদান করা হয়।
অতঃপর রেক্টিফায়ার সার্কিট এর মাধ্যমে তাকে ডিসি করা হয়।
এই ডিসি পুরোপুরি ডিসি নয়। কিছু এসি ভেজাল হিসেবে থাকে। তাই ইহাকে ফিল্টার করার জন্য L-C বা π ফিল্টার সার্কিট ব্যবহার করা হয়।
ফিল্টার করার পর পিউর ডিসি ইনভার্টার অংশে ইনপুট হিসেবে যায়। আর ইনভার্টার আমাদের থ্রী ফেইজ এসি সাপ্লাই দেয়।
VFD এর মূল কাজটা ইনভার্টার করে বলে একে ইনভার্টার হিসেবেও আমরা চিনি। এটা দিয়ে ফ্রিকুয়েন্সির পরিবর্তন করেও মোটর স্পীড পরিবর্তন করা সম্ভব।
নিচে বুঝার সুবিধার জন্য সার্কিট ডায়াগ্রাম দেয়া হল:

5:01 AM

HVAC

HVAC

১. HVAC কি ?
উত্তর : HVAC full from Heating, Ventilation, and Air Conditioning .
হিটিং : কোনো আবদ্দ্ব শীতল স্থানের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে আখ্যাকৃত তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য যে পরিমান তাপ সরবরাহ করতে হয় তাকে হিটিং লোড বলে।
ভেন্টিলেশন : কোনো নিয়ন্ত্রিত কক্ষ থেকে মানুষ, মেশিনারি , ব্যবহিত কাঁচামাল এর উৎপাদিত পণ্য ইত্যাদি হতে উৎপন্ন তাপ, ধুলা , ময়লা , ঘাম থেকে দুর্গন্ধ প্রভীতি পরিত্যাগ করতে ডাক্ট সমেত ফ্যান দিয়ে প্রয়োজনীয় বাতাস বের করে দেওয়াই কে ভেন্টিলেশন বলে।
Air Conditioning: কোনো কক্ষ বা রুমের তাপমাত্রা , আর্দ্রতা , বাতাসের গতিবেগ , বিশুদ্ধত। ইত্যাদি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আরামদায়ক পরিবেশ সৃস্টি করাকেই Air Conditioning .

২. বিভিন্ন পদ্দ্বতিতে কুলিং লোড এর একক গুলো।
উত্তর :
F.P.S system - Btu/Hr
M.K.S system - Kcal/Hr
S.I System - KJ/Sec or KW
৩. Humidity, Humidification & De - Humidification কি ?
উত্তর :
Humidity :১ কেজি শুস্ক বাতাসে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের ভর কে Humidity বলে
Humidification : Dry bulb temperature পরিবর্তন না ঘটিয়ে বাতাসের জলীয় বাস্প যুক্ত করার প্রক্রিয়া কে বলে।
De-Humidification : Dry bulb temperature পরিবর্তন না ঘটিয়ে বাতাসের জলীয় বাস্প অপসারণ করার প্রক্রিয়া কে বলে।
৪. Dry bulb temperature কি ?
উত্তর : সাধারণ থার্মো মিটার এ তাপমাত্রা পাওয়া যায়, তাকে Dry bulb temperature বলে।
৫. ইন্ডাস্ট্রিয়াল এ সি সিস্টেম বলতে কি বুঝায় ?
উত্তর : শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শীতাতপ নিয়ন্ত্ৰণ পদ্দ্বতি ইন্ডাস্ট্রিয়াল শীতাতপ নিয়ন্ত্ৰণ। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি যেমন Chiller, Cooling Tower, Pump, AHU and FCU etc কেন্দ্রিও ভাবে একটি রুম স্থায়ী ভাবে স্থাপন করে ducting & Piping এর মাদ্দমে নিয়ন্ত্ৰণ বাতাস নিয়ন্ত্ৰণ রুম সরবরাহ করে সিতাতপ নিওন্ত্রন ক্রিয়া সম্পন্ন করে।
৬. ইন্ডাস্ট্রিয়াল এর অভ্যন্তরে শ্রমিকদের আরামদায়ক তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা কত রাখতে হবে ?
উত্তর :
তাপমাত্রা : ২৪ degree Celsius
Humidity: (৪৫-৫০)% RH
Velocity: 15-20 Ft/Min,
Purity : 100%

4:59 AM

সলিনয়েড ভাল্ভ

সলিনয়েড ভাল্ভ:

#সলিনয়েড ভাল্ভের কাজ কি?
#উঃ সলিনয়েড ভাল্ভের মূল কাজ হচ্ছে
ম্যাগনেটের সাহায্যে কোন গেট খুলে
দেওয়া।
সলিনয়েড ভাল্ভ কিভাবে কাজ করে?
উঃএটার দুটি অংশ আছে যথা ইলেকট্রিক্যাল
ও মেকানিক্যাল
ইলেকট্রিক্যাল অংশে পরিবাহীর প্যাচানো
একটি কয়েল থাকে যাকে বলাহয় (সলিনয়েড
কয়েল)যার কাজ হচ্ছে ম্যাগনেট তৈরি করা।


মেকানিক্যাল অংশটা একটি গেট ভাল্ভের
ন্যায় পাইপের সাথে ফিটিং করা থাকে গেট
ভাল্ভে যেমন একটি হ্যান্ডেল থাকেএখানে
হ্যান্ডেলের কাজটি একটি স্প্রিং এবং
অরিন গ্যাসকেট ও লোহার দন্ড দ্বারা করা
হয়।
এমন ভাবে স্প্রিংটি ফিটিং করা থাকে
যখন কয়েলে পাওয়ার দেওয়া হয় তখন
ম্যাগনেটের সাহায্যে স্প্রিং টানদেয়
সাথেসাথে গেট-ভাল্ভটি খুলে যায়। তখন
বাতাস,গ্যাস,পানি,ফুয়েল,ইস্টিম, এগুলি
প্রবাহ করা শুরু করে দেয় আবার পাওয়ার অফ
করার সাথেসাথে ভাল্ভটি বন্ধ হয়ে যায়।
এভাবেই সলিনয়েড ভাল্ভ কাজ করে।
নিউমেটিক সিস্টেম এবং হাইড্রোলিক
সিস্টেম এক্টিব রাখার জন্য সলিনয়েড ভাল্ব
এর গুরুত্ব অপরিসীম
এছাড়াও ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন কাজে
সলিনয়েড ভালভ এর ব্যবহারে কমতি নেই
বয়লার ,এয়ার কম্প্রেসার ,ওয়াটার লাইন
,গ্যাস লাইন
মোটকথা লিকুইড

পদার্থ অটোমেশন কাজে ব্যবহার করতে
চাইলে সলোনাইট ভালো ব্যবহার করতে হয়।

Saturday, June 27, 2020

11:55 PM

555 Timer IC

555 Timer IC বেসিক
 আপনারা যারা ইলেকট্রনিক্স পাগলা, তারা সম্ভবতই ৫৫৫ টাইমার আইসি-এর নাম শুনেছেন? ঘড়ি ও বিভিন্ন টাইমার তৈরি করতে এর বহুল ব্যবহারের কারনে নাম হয়ে গেছে ৫৫৫ টাইমার আইসি।
এর ৮ খানা পিন দেখেই একে চেনা যায়। সব ক্ষেত্রে একে ডাকা হয় NE555N নামে।
তো এই আইসি যে কেবল ঘড়ি বানাতেই লাগে তা কিন্তু নয়, যেকোনো ছোটখাটো সেন্সর ও মোটর অপারেশনে ইউজ করা হয় একে।
এখন এর পিন গুলো চিনে নিইঃ
খেয়াল করেছেন? ১ নম্বর পিনের উপর একটা ছোট গোল ফুটো একে বলে “নচ” (Notch) এটা দ্বারা বোঝা যায় কোনটা ১ নম্বর পিন। গোল গর্তটা দেখেছেন?
১ নম্বর পিনে নিগেটিভ বা গ্রাউন্ড সাপ্লাই দিতে হবে।
২ নম্বর পিনে ট্রিগার, এটা ৬ নম্বর পিনের আউটপুট নিয়ন্ত্রণ করে। এটা ১ ও ৩ নম্বর পিনের ইনপুট ভোল্টেজের পার্থক্য যাচাই করে আউটপুট হাল্কা বা গাঢ় করে।যদি পিন ২ ও পিন ৬ লো হয় তবে আউটপুট হাই হয়ে যাবে।যদি পিন ৬ হাই ও পিন ২ লো হয় তবে আউটপুট লো থাকবে।
৩ নম্বর পিনে সব রকম আউটপুট কারেন্ট আসে যা মুলত পজিটিভ কারেন্ট যা প্রায় ২০০mA
৪ নম্বরে পজিটিভ কারেন্ট দিলে সাথে সাথে পুরো টাইমার রিসেট হয়ে যাবে। ভেতর থেকে প্রায় ১০০K রোধ দিয়ে সংযুক্ত। চিপটিকে রিসেট করতে ০.৮ ভোল্ট লাগবে।
৫ নম্বরে ভোল্টেজ কন্ট্রোল, ভেরিয়েবল রিসিস্টর দিতে হবে ভিসিসি থেকে বা পজিটিভ থেকে।
৬ নম্বর পিনে থ্রেসহোল্ড।
৭ নম্বর পিনে ডিসচার্জ পিন।
৮ নম্বরে পজিটিভ কারেন্ট সাপ্লাই যার মান ৩ থেকে ৯ ভোল্ট।
আচ্ছা, এর ভেতরে কি আছেঃ 555 টাইমার চিপ হল একটি Intergrated Circuit (IC) এবং এতে সিলিকনে ঢাকা একটি ছোট্ট সার্কিট আছে।
প্রতিটি পিন যে সার্কিটে কানেক্টেড তাতে আছে ২০ টা ট্রাঞ্জিস্টর, ২ টা ডায়োড এবং ১৫ টা রিসিস্টর।
তিনটা 5k রিসিস্টর লক্ষ করেছেন? এইজন্যেই এর নাম 555

11:43 PM

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিকে চিকিৎসকের বিকল্প রোবট আবিষ্কার!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিকে চিকিৎসকের বিকল্প রোবট আবিষ্কার

 

রোবটের কথা বলা বা হাঁটাচলা করা নতুন কিছু নয়। তবে চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে রোবটকে ব্যবহার করার ধারণা একেবারেই নতুন। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এমনই এক রোবট বানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পাঁচ শিক্ষার্থী। তাদের বানানো ‘মিস্টার ইলেক্ট্রোমেডিকেল’ নামের ওই রোবট মানুষের শরীরের তাপমাত্রা, হার্টবিট, অক্সিজেনের পরিমাণ ও রক্তচাপ পরিমাপসহ রোগ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে সক্ষম।
এছাড়া চলাফেরা করার পাশাপাশি সালাম দিয়ে নিজের নাম, দেশের নাম, জাতির জনকের নাম ও প্রধানমন্ত্রীর নাম বলতে পারে মিস্টার ইলেক্ট্রোমেডিকেল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেক্ট্রোমেডিকেল টেকনোলজি বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আশিকুর রহমান, মো. আনাসুর রহমান, মো. মীর আমিন, মেহেদী হাসান ও ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল মোন্নাফ মাত্র ১৫ দিনে ‘মিস্টার ইলেক্ট্রোমেডিকেল’ রোবটটি বানিয়েছেন।
এ কাজে তাদেরকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন ইলেক্ট্রোমেডিকেল টেকনোলজি বিভাগের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (টেক) মো. আবুল কাশেম। শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের বিভাগের নামেই রোবটটির নাম দিয়েছেন মিস্টার ইলেক্ট্রোমেডিকেল।
ইলেক্ট্রোমেডিকেল টেকনোলজি বিভাগের ল্যাবে বানানো রোবটটির জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এ টাকার সিংহভাগই যোগান দিয়েছেন বিভাগের সকল শিক্ষার্থীরা। আর কিছু টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ। গত ৭ জানুয়ারি রোবট বানানোর কাজ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। টানা ১৫ দিন কাজ করে পরিপূর্ণ রোবট বানাতে সক্ষম হন তারা।
গত ২৩ জানুয়ারি রোবটটি ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে শিক্ষার্থীরা। রোবটটির নিয়ন্ত্রণে স্থাপন করা হয়েছে রেসবেরি পাই (Raspberry Pi), আরডোইনো মেগা (Arduino Mega) ও আরডোইনো ইউএনও (Arduino UNO)। আর মানুষের স্বাস্থ্যের পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য বেশ কিছু ফিচার যুক্ত করা হয়েছে রোবটটিতে।
মিস্টার ইলেক্ট্রোমেডিকেল মানুষের শরীরের রক্তচাপ, রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ, ইসিজি, হার্টবিট, কোলেস্টরল, ইউরিক এসিড ও ব্লাড সুগার পরিমাপসহ রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বেশ কিছু পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে সক্ষম। এজন্য রোবটটিতে যুক্ত করা হয়েছে বি.পি মনিটর, ই.সি.জি সেন্সর পালস্ অক্সিমেটরি সেন্সর, জি.সি.ইউ সেন্সর, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ও থার্মাল স্ক্যানার। আর চলাফেলা করার জন্য ক্যামেরা ও আল্ট্রাসনিক সেন্সর লাগানো হয়েছে।
ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এসব ফিচার ব্যবহারও করা হয়েছে। সবকটি ফিচারই যথাযথভাবে কাজ করেছে বলে দাবি করেছেন ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ। পালস্ অক্সিমেটরি সেন্সরে আঙ্গুল রাখলেই দেখা যাচ্ছে হার্টবিট ও অক্সিজেনের পরিমাণ। রোবটের হাতে থাকা থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে পরিমাপ করা যাচ্ছে শরীরের তাপমাত্রা ও রক্তচাপ পরিমাপ যন্ত্র দিয়ে সহজেই জানা যাচ্ছে উচ্চ নাকি নিম্ন রক্তচাপ। এছাড়া জি.সি.ইউ সেন্সরের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে কোলেস্টরল, ইউরিক এসিড, ব্লাড সুগার ও ব্লাড গ্রুপ।
মাদকাসক্ত কাউকে শনাক্ত করতে এবং আগুন লাগার খবর দিতে রোবটটিতে নতুন ফিচার হিসেবে অ্যালকোহল ডিটেক্টর ও ফায়ার অ্যালার্ম যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। রোবটটি যে কোনো জায়গা থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি মোবাইল অ্যাপস্ তৈরির কাজও করছে ওই পাঁচ শিক্ষার্থী।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সারাদেশের ৪৯টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মধ্যে শুধুমাত্র নয়টিতে ইলেক্ট্রোমেডিকেল টেকনোলজি বিভাগ চালু রয়েছে। মূলত এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা মেডিকেল সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজটি করে থাকেন। ২০০৫ সাল থেকে এ বিভাগটি চালু হলেও এখনও পর্যন্ত পাস করে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারিভাবে কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হয়নি। ফলে বেসরকারিভাবেই কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
নিজেদের বিভাগকে সারাদেশে পরিচিত করে তোলার পাশাপাশি সুযোগ পেলে মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখার কথা জানান দিতেই এ মেডিকেল রোবট বানানোর উদ্দেশ্য ইলেক্ট্রোমেডিকেল টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের।
মিস্টার ইলেক্ট্রোমেডিকেলকে আরও উন্নত করার জন্য কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মিস্টার ইলেক্ট্রোমেডিকেল দেশের সেরা মেডিকেল রোবট হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।


 

11:39 PM

দেশের প্রথম মেডিকেল রোবট মিস্টার ইলেক্ট্র্রোমেডিকেল

দেশের প্রথম মেডিকেল রোবট মিস্টার ইলেক্ট্র্রোমেডিকেল

 

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মেডিকেল রোবট বানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়রগর উপজেলাস্থা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পাঁচ শিক্ষার্থী। তাদের বানানো মিস্টার ইলেক্ট্রোমেডিকেল নামের ওই রোবট মানুষের শরীরের তাপমাত্রা, হার্টবিট, অক্সিজেনের পরিমাণ ও রক্তচাপ পরিমাপসহ রোগ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে সক্ষম। এছাড়া চলাফেরা করার পাশাপাশি সালাম দিয়ে নিজের নাম, দেশের নাম, জাতির জনকের নাম ও প্রধানমন্ত্রীর নাম বলতে পারে মিস্টার ইলেক্ট্রোমেডিকেল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেক্ট্রোমেডিকেল টেকনোলজি বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আশিকুর রহমান, মো. আনাসুর রহমান, মো. মীর আমিন, মেহেদী হাসান ও ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল মোন্নাফ মাত্র ১৫ দিনে মিস্টার ইলেক্ট্রোমেডিকেল রোবটটি বানিয়েছেন। এ কাজে তাদেরকে সহযোগীতা করেছেন ইলেক্ট্রোমেডিকেল টেকনোলজি বিভাগের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (টেক) মো. আবুল কাশেম।
রোবটটির নিয়ন্ত্রণে স্থাপন করা হয়েছে রেসবেরি পাই (জধংঢ়নবৎৎু চর), আরডোইনো মেগা (অৎফঁরহড় গবমধ) ও আরডোইনো ইউএনও (অৎফঁরহড় টঘঙ)। আর মানুষের স্বাস্থ্যের পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য বেশ কিছু ফিচার যুক্ত করা হয়েছে রোবটটিতে। রোবটটির জন্য খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। বিভাগের সকল শিক্ষার্থী ও ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ এই টাকার যোগান দিয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি রোবট বানানোর কাজ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। টানা ১৫দিন কাজ করে গত ২৩ জানুয়ারি পরিপূর্ণ রোবট বানাতে সক্ষম হন তারা।
মিস্টার ইলেক্ট্রোমেডিকেল মানুষের শরীরের রক্তচাপ, রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ, ইসিজি, হার্টবিট, কোলেস্টরল, ইউরিক এসিড ও ব্লাড সুগার পরিমাপসহ রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে সক্ষম। এজন্য রোবটটিতে যুক্ত করা হয়েছে বি.পি মনিটর, ই.সি.জি সেন্সর পালস্ অক্সিমেটরি সেন্সর, জি.সি.ইউ সেন্সর, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ও থার্মাল স্ক্যানার। আর চলাফেলা করার জন্য ক্যামেরা ও আল্ট্রাসনিক সেন্সর লাগানো হয়েছে।ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এসব ফিচার ব্যবহারও করা হয়েছে। সবকটি ফিচারই যথাযথভাবে কাজ করেছে বলে দাবি করেছেন ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ। মাদকাসক্ত কাউকে শনাক্ত করতে এবং আগুন লাগার খবর দিতে রোবটটিতে নতুন ফিচার হিসেবে অ্যালকোহল ডিটেক্টর ও ফায়ার অ্যালার্ম যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। রোবটটি যে কোনো জায়গা থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি মোবাইল অ্যাপস্ তৈরির কাজও করছে ওই পাঁচ শিক্ষার্থী।
ইলেক্ট্রোমেডিকেল টেকনোলজি বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আশিকুর রহমান জানান, মেডিকেল রোবট দেশে আগে কখনও তৈরি হয়নি। আমরাই প্রথম এটি বানিয়েছি। সাধারণত একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যে ধরণের পরীক্ষা-নীরিক্ষা হয় তার সবগুলোই আমাদের রোবট দিয়ে করা সম্ভব। হাসপাতালে ডাক্তার না থাকলেও আমাদের এই রোবট যেন বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে সেজন্য আমরা এটিকে আরও আধুনিক ও উন্নত করার চেষ্টা করছি।
ইলেক্ট্রোমেডিকেল টেকনোলজি বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল মোন্নাফ জানান, যেহেতু মেডিকেল সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ নিয়ে আমাদের লেখাপড়া সেজন্যই আমরা মেডিকেল রোবট বানিয়েছি। এই রোবট মানুষের শরীরের অনেকগুলো পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে সক্ষম। এখনও এটি প্রাথমিক অবস্থায় আছে। আমরা রোবটটিকে আরও উন্নত ও আধুনিক করার কাজ করছি।
শিক্ষার্থীদের গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য বানানো হলেও ভবিষ্যতে আর্থিক সহযোগীতা পেলে মিস্টার ইলেক্ট্রোমেডিকেল বাণিজ্যিকভাবে বানানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেক্ট্রোমেডিকেল টেকনোলজি বিভাগের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর মো. আবুল কাশেম জানান, আমাদের শিক্ষার্থীদের বানানো রোবটটি বিভিন্ন বায়োমেডিকেল কাজ করতে পারে। এখন শিক্ষার্থীদের গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হলেও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পেলে এটি বাণিজ্যিকভাবেও বানানো সম্ভব। রোগীর শারীরিক অবস্থা জানাসহ রোগীর কাছে ওষুধ ও খাবার সরবরাহের কাজটি খুব সহজভাবে করতে পারবে এই রোবট।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছাত্র-শিক্ষকরা তাদের স্বল্প সামর্থ্যের মধ্যে এই রোবট তৈরি করেছেন। যদি কেউ অর্থায়ন করেন তাহলে রোবটটিকে আরও কার্যকর করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় অর্থ পেলে বাণিজ্যিকভাবেও এই রোবট তৈরি করে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দেয়া যাবে।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম বলেন, মেডিকেল রোবটের ধারণাটি আমাদের দেশে একেবারেই নতুন। শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগটি খুবই প্রশংসনীয়। যদি এই রোবট চিকিৎসা ক্ষেত্রে কাজে আসে তাহলে আমরা এটিকে সানন্দে গ্রহণ করব।